ঢাকা, শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১ |

উদেয়মান মধ্যবিত্ত ও অর্থনৈতিক উন্নতি

February 28, 2021
Image

১৯৭০ সালে হেনরি কিসিঙ্গার যে বাংলাদেশের বর্ননা দিয়েছিলেন সেই বাংলাদেশ এখন আর নেই। বিগত কিছু বছরে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক বিকে অনেক উন্নতি করেছে। বাংলাদেশের ধর্মঘট ও রাজনৈতিক অরাজকতা এই উন্নতিতে ভাটা আনতে ব্যর্থ হয়েছে। অর্থনৈতিক এ উন্নতি বাংলাদেশে এক বিপুল মধ্যবিত্ত জনগোষ্টির সৃষ্টি করেছে। অর্থাৎ এই উন্নতি মধ্যবিত্ত মানুষদের সুযোগ- সুবিধা বৃদ্ধি করেছে, যার ফলে তারা আজ চাকুরীসহ অন্যান্য ব্যাপারে সরকারের উপর কর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের উর্ধমান মধ্যবিত্ত জনগোষ্টির সংখ্যা আখন শতকরা ১০ শতাংশ যা খুব দ্রুত পাকিস্তানের ১৮ শতাংশ ও ভারতে ৩০ শতাংশের সীমাকে ধরে ফেলবে।পরিসংখ্যান অনুসারে আমাদের নিম্নবিত্ত জনগোষ্টি যা ১৯৮০ সালে ৬০ শতাংশ ছিল তা ২০০০ সালে ৪৫ শতাংশ হয়েছে। এমন নানা প্রমান রয়েছে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির। ক্লিনিকাল বিশ্লেষণের মাধ্যমে জানা যায় যে, বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত জনগোষ্টির সংখ্যা আমাদের কর্মক্ষেত্রে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের এ উন্নতির মূলে রয়েছে বিদেশে শ্রম বিনিয়োগ। তাছাড়া বর্তমান প্রজন্মের স্বেচ্ছা- কর্মসংস্থান ও বানিজ্য করার প্রয়াস এ উন্নতির একটি ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। বিগত বছরগুলোতে আমাদের রাজধানী ঢাকা শহরে যে পরিবর্তন হয়েছে তা অত্যন্ত দৃষ্টিগ্রাহ্য। আমাদের এ নগরীতে আমাদের এই মধ্যবিত্ত সমাজের সুবিধার্থে নানা রেস্তোরা, কফি হাউস, শপিং মল এবং আরো নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। আজ থেকে ১১ বছর পূর্বে, আমাদের দেশের নতুন এক ধারনা নিয়ে গড়ে উঠেছিল ফ্যান্টাসি কিংডম। এই চিত্তবিনোদন পার্কটি আমাদের শহরের শিশুদের চাহিদা মিটিয়েছে। এর পূর্বে চিত্তবিনোদন পার্ক বলতে আমরা শিশু পার্ককেই বুঝাতাম। ফ্যান্টাসি কিংডমের এই উদ্বোধনী সারা দেশে এধরণের পার্কের প্রয়োজনীয়তার কথা ব্যক্ত করেছে, কিন্তু এটা ভুলে গিয়েছে যে এই দেশে অনেক অনেক শিশু এখনও রাস্তায় ভিক্ষা করে। আমাদের বাংলাদেশে যে বৈষম্য আছে তা খুবি প্রখর। আমাদের দেশে অধিকাংশ মানুষ এই চিত্তবিনোদন পার্কের প্রবেশমূল্যের চেয়ে কম টাকা দৈনন্দিন আয় করে বেঁচে থাকে। এই মধ্যবিত্ত সমাজই খুব তাড়াতাড়ি আমাদের সমাজের কাঠামো হিসেবে দাঁড়াবে। যদি আমাদের সরকার আমাদের দেশের কর ও অন্যান্য আয়কে আমাদের দরিদ্র সমাজের উন্নতিতে কাজে লাগায় তবে আমাদের দেশ অনেক বেশী উন্নতি করতে পারবে।আখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন কথা হল যে আমাদের সমাজের এই মানুষগুলোকে আমাদের নানা ক্ষেত্রে সুযোগ দিতে হবে। এখনকার শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজ তাদের অধিকার, বিনিয়োগ, সুবিধাসহ নানা বিষয়ে আখন সতর্ক। যদি সরকার এদিকে একটু নজর দেন তবে আমাদের দেশের অর্থনীতির অনেক উর্ধগতি হবে। কিন্তু চিন্তার বিষয় হল যে আমাদের মধ্যবিত্ত সমাজের এ চাহিদা যদি পূরণ করা হয় তবে আমাদের সমগ্র জাতির জন্য উন্নতি করবে কিনা? এর উপর আরো প্রশ্ন হল আমাদের এই মধ্যবিত্ত সমাজ কি এই দাবি পূরণ করলে তাদের দায়িতে ঠাকমত পালন করবে কিনা? তারা ঠিকমত কর দিবে কিনা? তারা ঘুষসহ অন্যান্য দূর্নীতি থেকে দূরে থাকবে কিনা? তারা দেশ ও জাতির প্রতি তাদের কর্তব্য পালন করবে কিনা? আমরা আশা করি আমাদের মধ্যবিত্ত সমাজ তাদের দায়িত্ব কর্তব্য পালনের মাধ্যমে আমাদের এই দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছাবে। তারা তাদের সকল কর্তব্য পালনের মাধ্যমে অধিকারের স্বদব্যবহার করবে।

পূর্ববর্তী পোস্ট
নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ
পরবর্তী পোস্ট
একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠার জন্য মূলধনের ব্যবস্থা কিভাবে হবে

Related Posts