উৎসব ঐতিহ্য আর আনন্দের শহর ঢাকা

February 7, 2018
Image

যে অর্থেই বিবেচনা করা হোক না কেন, ঢাকা বাংলাদেশের প্রাণ। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ৪০০ বছরের পুরনো এই শহরটি আরো দ্রুতগতিতে প্রসার লাভ করেছে। অনেকেই ঢাকাকে ব্যবসা-বানিজ্য, শিক্ষা এবং অন্যান্য যেকোনো কর্মকান্ডের মূল কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। কিন্তু অনেকেই হয়তো বুঝতে পারে না যে ঢাকা বিশ্বের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে একটি। আসলে খালি চোখে আমরা যা কিছু দেখতে পাই তার চেয়েও আরো বেশি কিছু এই শহরটির আমাদের দেয়ার আছে।

এই শহরটিতে অসামান্য সুন্দর কিছু শৈল্পিক নিদর্শন রয়েছে যা ৪০০ বছরের ঐতিহ্য লালন এবং ধারণ করে আছে। এই শহরটি প্রতিষ্ঠা পাবার প্রায় শুরু থেকেই বঙ্গের রাজধানী ছিল। এটি ছিল রাজা-বাদশাদের তীর্থভূমি। শহরের অনেক অলি-গলিতে এখনো তাদের শাসনামলের অনেক নিদর্শন চোখে পরে। এই শহরে অসংখ্য মসজিদ অবস্থিত। তাই ‘মসজিদের শহর’ হিসেবে এটির বেশ সুখ্যাতি রয়েছে। সবগুলো মসজিদ ঘুরে দেখতে একজন পর্যটকের কম করে হলেও ২ দিন সময় তো লাগবেই। এখানকার বেশিরভাগ মসজিদই দৃষ্টি নন্দন এবং কারুকার্যমন্ডিত। তাই এগুলো দেখতে আসা পর্যটকদের খুশির কোনো অন্ত থাকেনা।

‘পুরান ঢাকা’ নামে পরিচিত ঢাকার পুরনো একটি স্থান যা অষ্টাদশ এবং ঊনবিংশ শতাব্দির ঐতিহ্য এবং নিদর্শন বহন করছে। ভোজনরসিকদের জন্য এটি একটি স্বর্গ। পর্যটকদের মোঘলাই এবং বাংলার নিজস্ব ঘরানার রান্নার এক অপূর্ব স্বাদ গ্রহণের অপূর্ব সুযোগ করে দেয় এটি। লালবাগ কেল্লাও যথারীতি পুরান ঢাকায় অবস্থিত। সপ্তদশ শতাব্দিতে বাঙলার সুবেদার মুহাম্মদ আজম শাহ্ এটি নির্মাণ করেছিলেন। ৩০০ বছরেরও বেশি সময় পার করে আজও এটি স্বগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে। যেটা এখনো বেশ শক্ত-পোক্ত। পুরান ঢাকার একটু ভেতরেই অবস্থিত সদরঘাট নামক স্থানটি । যা হচ্ছে ঢাকার প্রধান নদী বন্দর।

খোদাই করা পুরনো ভাস্কর্যের প্রতি যাদের আগ্রহ আছে তাদের অবশ্যই ঢাকার অদূরে অবস্থিত সোনারগাঁ এর ঐতিহ্যবাহী স্থানটি একবার দেখে আসা উচিত। শত বছর আগে এটি নবাবদের বাসভূমি হিসেবে ব্যবহƒত হত। এটি ওই সময়কার একটি সমৃদ্ধ সংস্কৃতির নিদর্শন বহন করছে। বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতার মতে, অতীতে সোনারগাঁ একটি সমৃদ্ধশালী শহর ছিল। লোক-শিল্প জাদুঘর, সোনাকান্দা দূর্গ, খাঁস নগর দিঘী ও পানামা শহরের অবশিষ্টাংশ সমৃদ্ধ এই সোনারগাঁ এখনো পর্যটকদের কাছে একটি দর্শনীয় স্থান।

ঢাকাতে অসংখ্য সুন্দর সুন্দর স্মৃতিস্তম্ব এবং স্থাপনা রয়েছে যা এই জাতির সংগ্রামময় ইতিহাসের কথা বলে। মাতৃভাষার জন্য যাঁরা জীবন দিয়েছিলেন তাদের সম্মানার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভেতরে নির্মাণ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। ৩০ লাখ শহীদের তাজা রক্তের বিনিময়ে এই জাতি পেয়েছে তাদের বহু প্রতিক্ষীত স্বাধীনতা। তাদের স্মরনে ঢাকার অদূরেই নির্মাণ করা হয়েছে জাতীয় স্মৃতিসৌধ। শাহাবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘর এই জাতির হাজার বছরের পুরো ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি সংরক্ষণ করছে।

জাতীয় সংসদ চত্ত্বর ঢাকা শহরের অনিন্দ্য সুন্দর একটি দর্শনীয় স্থান। বিখ্যাত স্থপতি লুই আই কান জাতীয় সংসদের মূল ভবনটির নকঁশা করেন। গাছ-পালা আর পত্র-পল্লবে আচ্ছাদিত এই চত্ত্বরের মূল ভবনটিকে ঘিরে আছে দৃষ্টি নন্দন ক্রিসেন্ট লেক। যান্ত্রিক শহরের কোলাহল থেকে যারা একটু সময়ের জন্য দুরে থাকতে চান তারা এখানে নিময় করে ঘুরতে আসেন। বিকেলে গড়িয়ে সন্ধ্যা হতে হতে এখানে ভ্রমণ পিপাসু এবং কোলাহল থেকে দূরে থাকতে চায় এমন মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত মনোমুগ্ধকর নির্মাণ শৈলি সম্পন্ন খেলার মাঠ মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম। যদি কোন পর্যটক ভাগ্যবান হয়ে থাকে তবে তিনি সেখানে একটি ম্যাচও উপভোগ করতে পারবেন। সব বয়সের মানুষই মুখে রং মেখে তাদের প্রিয় দল, প্রাণের দল, টাইগার খ্যাত বাংলাদেশকে অনুপ্রাণিত করতে মাঠে আসে। আর যদি সেই ম্যাচে বাংলাদেশের জয় লাভ করে তবে তিনি এমন এক উৎসব আর আনন্দের সাক্ষী হবেন যা হয়তো তিনি আগে কখনোই ভাবেননি এবং দেখেনওনি।

ঢাকাতে বিলাসবহুল অনেক হোটেল আছে যা আপনাকে একটা মনোমুগ্ধকর ভ্রমন শেষে রাতে একটু আরামে থাকার ব্যবস্থা করে দেবে। কেনাকাটার জন্যও ঢাকা খুবই চমৎকার একটি স্থান। পোশাক, সিডি, ডিভিডি এবং নানান রকম ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী আপনি খুবই কম দামে এখান থেকে কিনতে পারবেন। ভ্রমনের মাধ্যমে আপনার খরচের প্রতিটি টাকা করে উসুল নেয়ার জন্য ঢাকার মতো আদর্শ স্থান দ্বিতীয়টি হয়তো খুঁজে পাবেন না।

Living in Dhaka – many problems but a necessity

Dhaka offers spirit of celebration, heritage and fun

 

পূর্ববর্তী পোস্ট
প্রচলিত বিপণন বাদ দিন; এবার নতুন কিছু করুন
পরবর্তী পোস্ট
ঢাকায় সাইকেল চালানোর কালচার

Related Posts