একক মালিকানার আদ্যোপান্ত

December 4, 2013
Image

একক মালিকানা ব্যবসার নিয়ন্ত্রক থাকেন একজন। তিনিই ব্যবসাকে সম্পূর্ণভাবে অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ করেন। অর্থাৎ ব্যবসায় ক্ষতির দায়ভার কিংবা লাভের কৃতিত্ব- দুইই তার। নিবন্ধন ও ব্যবসা শুরু করার সময়ই একজনের মালিকানার বৈধতা দেয়া হয়, অর্থাৎ যিনি বিনিয়োগ করে ব্যবসা শুরু করেছেন তিনিই ব্যবসার মালিক। তিনি কর্মচারীও রাখতে পারেন ইচ্ছামত।

এ ধরণের মালিকানা অন্যান্য বিভিন্ন ধরণ, যেমনঃ যৌথ উদ্যোগ, সীমিত দায়বদ্ধতাস্বরূপ যৌথ ব্যবসা, প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি, পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি ইত্যাদি থেকে ভিন্ন। অর্থাৎ একক মালিকানার কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য আছে। এর কিছু সুবিধা নিচে দেয়া হলঃ

•    এ ধরণের ব্যবসা শুরু করা সহজ। কাগজপত্রের বৈধতার তেমন কোন জটিলতা নেই। এক্ষেত্রে কারো সাথে কোনরূপ চুক্তিতে যেতে হয় না। তবে নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ভিন্নতা দেশভেদে হতেই পারে।

•    লিমিটেড কোম্পানিদের বাৎসরিক বিভিন্ন রিপোর্ট, যেমনঃ পরিচালক পরিবর্তন, আর্থিক পরিকল্পনা রিপোর্ট ইত্যাদি নথিবদ্ধ করতে হয়, তেমনটা একক মালিকানায় নেই। এখানে কেবল সময়মত ব্যক্তিগত পর্যালোচনাই যথেষ্ট।

•    একক মালিকানায় নিজের পছন্দমত কিংবা নিজের বিচার-বিবেচনায় যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যায় এবং সেক্ষেত্রে কারো মুখাপেক্ষী হয়ে থাকাও লাগে না। তবে অবশ্যই সহকর্মী ও উপদেষ্টাদের সদুপদেশ নেয়া উচিৎ।

•    এক্ষেত্রে মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণই নিজের, তাই এই বিষয়ে চিন্তার কিছু নেই। হঠাৎ করে মালিকানা বদলেরও কোন সম্ভাবনা থাকে না। ব্যবসাকে বিক্রি করা কিংবা চালিয়ে যাওয়াও সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।

•    অন্যান্য এন্টারপ্রাইজের সাথে বড় অমিল এই যে, একক মালিকানায় নিজের ইচ্ছামত লভ্যাংশ নেয়া কিংবা ব্যবসা থেকে টাকা তোলা যায় কোন প্রাতিষ্ঠানিক অবহিতকরণ ছাড়াই।

অপরপক্ষে, একক মালিকানার কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছেঃ

•    বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সাহায্য বা লোন পাওয়া কঠিন হতে পারে, কেননা এসব প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিমালিকানায় সাহায্যের ব্যাপারে রক্ষণশীল। ব্যবসার চলমানতা ও এন্টারপ্রাইজ ব্যবস্থাপনাও কখনো কখনো দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

•    একক মালিকানায় ট্যাক্সের বিশাল বোঝা বইতে হয়। বিভিন্ন হ্রাসযোগ্য খরচ কিংবা মূলধনের ওপর ছাড়ের ক্ষেত্রেও তেমন কোন সুবিধা পাওয়া যায় না।

•    ব্যবসায় মন্দার ক্ষেত্রে মালিকের নিজস্ব সম্পদকেও ব্যবসার দুর্দশা থেকে উত্তরণের জন্য খাটাতে হতে পারে।  এটি সীমাবদ্ধ দায় কোম্পানির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন, কারণ সেখানে মালিকের ব্যক্তিগত সম্পদ ব্যবসার দুঃসময়েও সুরক্ষিত থাকে যদি না তারা ব্যবসায় অমনোযোগী কিংবা বিপথগামী হিসেবে প্রমাণিত না হয়ে থাকে।

•    এ ধরণের ব্যবসায় গতিময়তা ও সাফল্যের চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। সতর্কতার সাথে পরিকল্পনা না করলে স্বত্বাধিকারী ছেড়ে দেয়ার পর ব্যবসায় ধস নামতে পারে। অন্যান্য ব্যবসায় কোন একজন মালিকানা ছেড়ে দিলেও বাকিরা ঠিকই ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে যা একক মালিকানায় অসম্ভবপ্রায়।

•    একক মালিকানায় ব্যবসায়িক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অসফলতা আসতে পারে। মালিকানা যখন নিজের তখন সর্বময় ক্ষমতার অহমে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়ার মানেই সর্বনাশ ডেকে আনা। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রণয়নে বিভিন্ন লোকের মতামত নিলে সাফল্যের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

দেশভেদে ব্যবসার বিভিন্ন ধরণের মধ্যে পার্থক্য হতেই পারে, তবে পরিকল্পনা ও পরিশ্রমের মিশেলে নিজের ব্যবসায় অবশ্যই সফল হওয়া সম্ভব।

পূর্ববর্তী পোস্ট
জাহাজনির্মাণ শিল্পের সম্ভাবনা উজ্জল
পরবর্তী পোস্ট
ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম দিয়ে সাফল্য আনা সম্ভব

Related Posts