একজন সফল ব্যবসায়ীর সামাজিক দায়িত্ব

January 4, 2014
Image

সব সরকারই সবসময়- ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও নিজের জন্য কিছু মৌলিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে থাকে। বাংলাদেশের সরকার তা থেকে ভিন্ন নয়। অনেক লক্ষের মধ্যে একটি আছে, যার সাথে এই তিন শ্রেণীর মানুষই জড়িত । তাহলো ধনী ও দরিদ্র এর মধ্যে পার্থক্য হ্রাস করা। কারণ, সরকারের একার পক্ষে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব না। এখানেই ব্যবসার ও লেনদেনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়,  যা ঠিক ভাবেপালন করলে একটি জাতির উন্নয়ন এবং একটি ভাল সমাজ তৈরিতে বিশাল ভূমিকা রাখে। এটা সম্ভব হয়-মৌলিক নিয়ম ও শর্তাবলি মান্য করে, সমাজকল্যাণমূলক কাজ করে।

দ্রুত পরিবর্তনশীল এ আধুনিক যুগে, একদল মানুষ সর্বদা চেষ্টা করছে যতটা নিজের জন্য অর্থ উপার্জন করতে। দুর্ভাগ্যবশত তারা প্রায়  সমাজের বাকি মানুষগুলোর কথা  ভুলে যায়।  তারা  উপলব্ধি করেনা  যে,  তারা সমাজ থেকেই তাদের এই অর্থ-বিত্ত অর্জন করেছে এবং স্বাভাবিকভাবেই সমাজের কাছে অনেক বেশি ঋণী।  ভালো হয়, যদি একটি জাতি বা রাষ্ট্র এমন ব্যবসায়ী-সমাজ তৈরি করতে পারে যারা সমাজের জন্য, জাতির জন্য কিছু করতে চায়। বাংলাদেশে এমন ব্যবসায়ী আছেন যারা সমাজের জন্য অনেক কিছু করতে চান কিন্তু সংখ্যায় এরা নগণ্য।

একটু অন্যভাবে দেখতে গেলে, ব্যবসায় সৎ হওয়া এবং গ্রাহকদের ভালো কিছু প্রদান করাও সমাজকে সাহায্য করার একটা উপায়। বাজারে অনেক পণ্যই আছে।  প্রথাগতভাবে, চটকদার বিজ্ঞাপনই গ্রাহকদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করে।তবে  কেবলমাত্র সেরা মানের পণ্যই বাজারে টিকে থাকতে পারে। সেরা মানের পণ্য সমাজের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য ভাল। সুতরাং মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ করার মাধ্যমে একজন ব্যবসায়ী, সমাজকে সাহায্য করতে পারেন।  আবার, ব্যবসায়ী বা মালিকদের তার কর্মচারীদের দিকে তার পরিবারের মত খেয়াল রাখা উচিৎ। তাদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করা মালিকের সামাজিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

অর্থনীতির ভাষায়, সমাজের প্রয়োজন এবং চাহিদার উপর  ভিত্তি করে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশেও তা-ই। প্রত্যেক ব্যবসায়ী সমাজের প্রতি তাদের সাফল্যের জন্য ঋণী। কিছু সমাজসেবামূলক কাজের মাধ্যমে সম্পদ ভাগ করে  নিলে তাদের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবী তৈরি করা সম্ভব। বাংলাদেশের প্রধান ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীরা যদি সামাজিক দায়িত্বগুলো সঠিক ভাবে পালন করে তাহলে একটি ভাল ও উন্নত সমাজ তৈরি হবে।

পূর্ববর্তী পোস্ট
কর্মস্থলে প্রতিবন্ধকতা দূর করার উপায়
পরবর্তী পোস্ট
পেশাগত জীবনের চাপ ও সস্তা কফির কাপ

Related Posts