বাংলাদেশ কি পরবর্তী বিনিয়োগের আদর্শ কেন্দ্রস্থল হতে পারবে

February 28, 2021
Image

অনেক খারাপ আছে এই দেশে। তবুও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের দিকে মনোযোগ দিতে পারে এর সুবিধাজনক ভৌগলিক অবস্থানের জন্য। বাংলাদেশ হল, পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার সংযোগ স্থাপনের প্রবেশপথ। বর্তমানে, 'বে অব বেঙ্গল ট্রায়াঙ্গাল' নামের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা নিয়ে গবেষণা চলছে। এই প্রস্তাবনা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে চেন্নাই, মুম্বাই এবং করাচীর পশ্চিম অংশের সাথে এবং ইয়াঙ্গুন, থাইল্যান্ড ,পানাং-এর পূর্বাংশ এবং কলম্বোর দক্ষিণ-পূর্বাংশের সাথে সংযোগ স্থাপন করা হবে। সিঙ্গাপুরের মত, বাংলাদেশেরও দক্ষিণ-পূর্বের সংযোগ স্থাপনের কেন্দ্রস্থল হিসেবে গড়ে ওঠার শতভাগ সুযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক দিক থেকে, বাংলাদেশ দিন দিন মারাত্মক অস্থির রাজনীতির দিকে যাচ্ছে। তবে বিভিন্ন বাধা থাকা সত্বেও সরকার বিদেশী বিনিয়োগের প্রতি উদার এবং বন্ধুত্বপূর্ণ। যেসকল কারণে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশকে বিনিয়োগের একটি যথোপযুক্ত স্থান হিসাবে বিবেচনা করতে পারেন,তাহলোঃ
• বাংলাদেশ সবসময় নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তার আন্তর্জাতিক ঋণ পরিশোধ করে আসছে। সরকার সবসময় ঋণ দাতা এবং চুক্তির শর্তসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে আসছে।
• স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে, সংরক্ষণ করে রাখার মতো বাংলাদেশ পর্যাপ্ত ধান, গম এবং আলু উৎপাদন করে থাকে।
• স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি সবসময় ইতিবাচকই রয়েছে। • বর্তমানে, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক ও নীটওয়্যার-এ বিশ্বের দ্বিতীয় রপ্তানিকারক দেশ।
সমসাময়িক বছরগুলোতে এদেশের অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ আইনে বিভিন্ন সংস্কার ও পরিবর্তন এসেছে। এটা আসলেই ইতিবাচক ফলাফল তৈরি করেছে। সরকার অর্থনীতিতে বৈদেশিক বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে। গত এক দশকে, বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের চারটি প্রধান সেলুলার ফোন অপারেটর বিদেশী বিনিয়োগের দ্বারাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশে প্রধান বিনিয়োগকারী দেশের তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স, চীন, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং এবং ভারত। বাংলাদেশী কোম্পানিগুলোও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির জন্য কাজ করছে। এই কোম্পানিগুলো গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক কোম্পানীগুলোর সাথে যুক্ত হয়ে যৌথভাবে কাজ করছে।আশা করা হয় যে, উন্নতির এই গতি ভবিষ্যতেও চলবে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো হলেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি সম্ভব।

পূর্ববর্তী পোস্ট
গ্রাম বাংলার আজ প্রয়োজন উদ্যোক্তার, ঋণের নয়
পরবর্তী পোস্ট
ব্যবসায় সফলতা লাভের আবশ্যিক দশটি যোগ্যতা

Related Posts