বয়স্ক মানুষের সংখ্যাধিক্য এবং নগরায়ন

December 9, 2018
Image

বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি বলতে কি বোঝায়? বয়স্ক মানুষের সংখ্যাধিক্য (পপুলেশন এজিং) বলতে কম বয়সীদের তুলনায় বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াটাকেই বোঝায়। যেখানে মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ হয়ে দাড়ায় বয়স্ক মানুষের সংখ্যা। আমরা বর্তমানে এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। সেটা কেবল বিশেষ কয়েকটি দেশে নয় রবং সমগ্র বিশ্বব্যাপী। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়ায় বয়স্ক মানুষের সংখ্যাটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটার মাত্রা এবং গতি বর্তমানে মানব জাতির ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার সময় দ্য ইকোনোমিস্ট ম্যাগাজিন বয়স্ক মানুষের সংখ্যাধিক্য (পপুলেশন এজিং) নিয়ে ২০০৯ সালে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। তারা রিপোর্টে উল্লেখ করে যে আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থা (আইএমএফ) হিসেব কষে দেখেছে যে ২০৫০ সালে বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দার অবস্থা আরো বড় আকার ধারণ করবে। আর সেটার পেছনে বড় ভূমিকা পালন করে বয়স্ক মানুষের সংখ্যাধিক্য। কারণ বয়স্ক মানুষের পেছনে (অবসরপ্রাপ্ত) প্রচুর টাকা খরচ করতে হবে। আইএমএফ জানায়, ‘বয়স্ক মানুষের সংখ্যাধিক্যের কারণে উন্নত দেশের রাজস্ব সংক্রান্ত বোঝা ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।’

কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বের উন্নত দেশগুলো এবং জাপানের মতো দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যাধিক্যের কোনো সীমা নেই। কারণ ওই দেশগুলোর ২০ শতাংশ জনসংখ্যা ইতিমধ্যে ৬৫ এর উপরের বয়সের। এটা আফ্রিকা, মধ্য প্রাচ্য এবং এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশেরও একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়টি চীনে খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে ২০৫০ সালের মধ্যে চীনের তিন ভাগ জনসংখ্যার এক ভাগের বয়স হবে ৬৫ এর উপরে। এমনকি ভারত যেখানে দুই তৃতীয়াংশের বয়স ৩০ এর নিচে তারাও বয়স্ক মানুষদের দেখাশুনার বিষয়টি নিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। বয়স্ক মানুষের সংখ্যাধিক্য সব সমাজের গঠনতন্ত্রে গভীর এবং নজিরবীহিন পরিবর্তন আনবে।

নগরায়ন কেন ইস্যু? শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে শহরগুলো ব্যবসা-বানিজ্য, দক্ষ লোকের আকর্ষণীয় স্থান এবং অর্থনীতির কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতির সময়ে যেখানে নতুন চাকরির সুযোগ খুব কমই হয় সেখানে নগরায়নের বিষয়টি একটি আসার আলো হয়ে দেখা দিচ্ছে। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে কেন নগরায়ন একটি ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ১৫০০ শতাব্দী পর্যন্ত এশিয়াই ছিল বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্র। যা বিশ্ব জিডিপির দুই তৃতীয়াংশের যোগান দিত। কিন্তু অষ্টাদশ এবং উনবিংশ শতাব্দীতে ইউরোপ এবং আমেরিকাতে নাগরায়ন এবং শিল্পায়ন বিকাশ লাভ করে। বর্তমানে আমরা অর্থনীতির চালিকাশক্তি আবার এশিয়ার কাছে ফেরত আসার বিষয়টি লক্ষ্য করছি। যা আগে কখনো লক্ষ্য করা যায়নি। উদাহরণস্বরুপ চীনের অর্থনীতির পরিবর্তনের মূলে রয়েছে নগরায়ন ও শিল্পায়ন যা যুক্তরাজ্যের চেয়ে ১০০ গুণ বেশি মাত্রায় সাধিত হচ্ছে এবং যার গতিশীলতা যুক্তরাজ্যের চেয়ে ১০ গুণ বেশি।

বিশ্ব অর্থনীতির পটপরিবর্তনের গুরুত্বপূণ ইতিহাসের সাক্ষী হচ্ছি আমরা। এই পটপরিবর্তনের অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দ্রুত নগরায়ন, উদীয়মান অর্থনীতি এবং টাকাওয়ালা ভোক্তাদের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রাকৃতিক এবং মূলধনিক সম্পদের চাহিদা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবাসনের চাহিদা পূরণ করতে শহরগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধণ করতে প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ করতে হবে। উদীয়মান অর্থনীতির নগর কেন্দ্রগুলোই এই বিনিয়োগের বেশির ভাগ যোগান দিয়ে থাকবে। বিশ্ব বিনিয়োগের হার এবং সম্পদের মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। পরিবেশের উপর এগুলোর প্রভাবও হবে সুদূরপ্রসারী।

পূর্ববর্তী পোস্ট
ব্যাবসায়িক কার্যাদি সহজ সাধারন রাখা
পরবর্তী পোস্ট
নির্বাচনের মৌসুম, উত্তেজিত সবাই

Related Posts