স্যমসন এইচ চৌধুরির কথা

Image

এটা বলা হয়ে থাকে যে, একটি মানুষকে বা তার সম্পূর্ণ জীবনকে সত্যিকার অর্থে বিচারের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা হচ্ছে এটা দেখা যে, তিনি তার জীবনে অন্যান্য মানুষদের কি পরিমাণ সাহায্য করেছেন বা তার আশেপাশের মানুষদের জীবনে তার অবদান কতটুকু।

স্যমসন এইচ চৌধুরি হচ্ছেন এমন একজন মানুষ, যার জীবনের সার্থকতা এটাই যে, তিনি তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন। তিনি ২০০৫ সালের ৫ জানুয়ারী ৮৬ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন। অনেকেই ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সফলতার শীর্ষ চূড়ায় পৌছাতে পারেন, কিন্তু খুব অল্পই সেই সফলতাকে সাধারন ও অসহায় মানুষের সাহায্যের জন্য ব্যাবহার করতে পারেন। স্যমসন এইচ চৌধুরি এমন একজন মানুষ যিনি সফলতার শীর্ষে যেয়েও সাধারন মানুষদের সাহায্য করার জন্য মন:স্থির করেন।

স্যমসন এইচ চৌধুরি ১৯৫৮ সালে স্কয়ার গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকেই প্রায় ৩৩,০০০ কর্মচারী নিয়ে স্কয়ার গ্রুপকে বাংলাদেশের শীর্ষ একটি বৃহৎ কর্পোরেশনে রূপ দেন। স্কয়ার গ্রুপ বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলঃ ওষুধ শিল্প, বস্ত্রশিল্প, মসলা জাতীয় পণ্য, চিকিৎসা দ্রব্যাদি, প্রসাধনী দ্রব্যাদি এবংদেশ বিদেশে যোগাযোগ মাধ্যমগুলো তৈরির বিভিন্ন উপাদান। স্কয়ার গ্রুপ শুধুমাত্র ব্যবসার দিক থেকেই সফলতার শীর্ষে পৌছায়নি, বরং নৈতিকতার মাধ্যমে ব্যবসা চালনা করার এক আদর্শ মানদণ্ড দাড় করিয়েছে।

স্যমসন এইচ চৌধুরি ‘বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানি’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি একাধারে ‘ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ’- এর সহ-সভাপতি হিসেবে ও ‘সেন্ট্রাল ডিপোসিটোরি বাংলাদেশ লিমিটেড’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ তার অর্জনের প্রতি সন্তুষ্ট থাকে এবং তার পরিশ্রমের ফলটা উপভোগ করে বাকি জীবন কাটায়। কিন্তু স্যমসন এইচ চৌধুরিকে তাদের সাথে তুলনায় আনা যায় না। তার সফলতা তাকে বিশ্রাম তো দেয়নি বরং আরও কর্মঠ করে তুলেছে। তিনি দরিদ্রদের সাহায্য করার জন্য প্রচুর অর্থ দান করেছেন। এছাড়াও তিনি ‘কোইননিয়া’-এর চেয়ারম্যান হিসবে নিয়োজিত ছিলেন, যারা সাধারন দরিদ্রকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং ক্ষুদ্রঋণ সহায়তা দিয়ে থাকে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি খ্রিস্টান কমিশন গঠন করেন বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য। দাতা সংস্থাগুলো মুক্তিযুদ্ধে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বিভিন্ন কাঠামোর সংস্কার কাজে যোগ দেয়।

ব্যবসা ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা এবং সার্থকতাকে কাজে লাগিয়ে বিশাল জনগোষ্ঠীর সাহায্যে এগিয়ে আসার একটি বড় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন স্যমসন এইচ চৌধুরি। জীবনে তার এই অনুসরণীও কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন ঘটানো, তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি মহৎ উপায়।

 

পূর্ববর্তী পোস্ট
বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি
পরবর্তী পোস্ট
নবায়নযোগ্য জ্বালানি হবে আগামীর মূল শক্তি

Related Posts