হাঁস-মুরগি চাষের মাধ্যমে নেত্রকোনার গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নতিসাধন

October 21, 2017
Image

হাঁস-মুরগি চাষ আয়ের একটি অভিনব উৎস হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে যা শত শত যুবক যুবতীদের বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে রাস্তা দেখাচ্ছে এবং পাশাপাশি এটি নেত্রকোনার গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নতির ক্ষেত্রেও অনেক বড় ভূমিকা পালন করছে। হাঁস-মুরগি চাষের খামার বা পোলট্রি ফার্মের মতো এরকম আরও অনেক অর্থ আয়ের ক্ষেত্র প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্র চালিত বিভিন্ন ব্যাংক এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ প্রদান করছে। এই ঋণ প্রদান কার্যক্রম সম্পাদন হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচির মাধ্যমে। পশু-বিজ্ঞান বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা প্রদান করছে যাতে করে হাঁস মুরগির খামার থেকে বিভিন্ন ক্ষতিকারক রোগবালাই দূর করা যায়। যেমন, পাখির ফ্লঊ এবং এরকম আরও অনেক রোগ। এই কার্যক্রমটি পশু চিকিৎসক দ্বারা প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর আরেকটি উদ্দেশ্য হল খামারে যথাসম্ভব স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখা এবং হাঁস মুরগির স্বাস্থ্যের উন্নতি করা।

নেত্রকোনায় প্রায় ৩০০০টি বড়, মাঝারি ও ছোট আকারের খামার বা পোলট্রি ফার্ম রয়েছে যা শত শত বেকার মানুষের জন্য জীবিকা অর্জনের সুযোগ করে দিচ্ছে। সাথে সাথে জেলাটির গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নতিতেও অনেক বড় ভূমিকা পালন করছে। এরকমই একজন মানুষ হচ্ছেন সাজ্জাদ হোসেইন, যিনি নেত্রকোনা সদর উপজেলার রউহা গ্রামের একজন হাঁসমুরগি চাষের ব্যবসায়ী। তিনি ‘মিলন পোলট্রি ফার্মের’ মালিক। তিনি বলেন যে, ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা প্রয়োজন হয় একটি হাইব্রিড মুরগি পালনের জন্য, যা বছরে প্রায় ৩২০ থেকে ৩৫০ টি ডিম দেয়। এবং এর মাধ্যমে তিনি খুব সহজেই তার পরিবার চালাতে পারেন এবং কিছু পরিমাণ টাকা সঞ্চয়ও করে রাখতে পারেন। তিনি আরও বলেন যে, তার পোলট্রি ফার্ম প্রতিষ্ঠা এবং চালানোর জন্য তিনি একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ পায় এবং এর মাধ্যমে সে তার আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি করতে পারে।

সাজ্জাদ হোসেইনের মতো আরেকজন মানুষ হচ্ছেন, রফিকুল ইসলাম আপ্পলো, যিনি নেত্রকোনা সদর উপজেলার কয়লাতি এলাকার বাসিন্দা এবং আপ্পলো পোলট্রি ফার্মের’ মালিক। তিনি বলেন যে, তার দৈনিক ২.৫০ থেকে ৩ টাকা লাগে একটি মুরগিকে খাওয়ানোর জন্য। সে অন্যান্য পোলট্রি ফার্মের’ মালিক এবং পশু-বিজ্ঞান বিভাগের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে উৎসাহ লাভ করেন এবং এই কার্যক্রম শুরু করেন। বর্তমানে তার প্রায় ৮০০০ সংখ্যক মুরগি আছে। তিনি আরও জানান যে, তার পোলট্রি ফার্ম চালানোর জন্য তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ লাভ করেন।

নেত্রকোনা জেলার অনেক সংখ্যক হাঁস-মুরগি খামারের মালিকরা বলেন যে, সেখানকার অনেক মানুষের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে এই হাঁস-মুরগি চাষ বা পোলট্রি ফার্মের মাধ্যমে। তাই তারা এসব অঞ্চলে একটি বড় আকারের হিমাগার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কথা বলেছেন, যাতে তারা বাজারে ডিমগুলো বিক্রি করার আগে হিমাগারে যথাযথভাবে সংরক্ষন করতে পারে।

পূর্ববর্তী পোস্ট
সফল মানুষেরা যা কখনোই করেন না
পরবর্তী পোস্ট
বিটিআরসি নতুন অপারেটর হিসেবে আরেকটি খেলোয়ার চায়

Related Posts